শাফায়েত নাজমুল,কিশোরগঞ্জ থেকেঃ
কন কনে ঠান্ডা এবং শীত । সন্ধ্যার পর ঘন কোয়াশার চাদরে সবকিছু ডাকা থাকে। শীতে যেনো কাঁপছে সারা দেশ। ঠিক এসময় কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ।
মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারী) দিবাগত রাতে তার থানায় এক ভিক্টিম এর খোঁজ নিতে আসেন রাতে। তিনি দেখলেন থানার নারী হেল্প ডেস্কে পাতলা একটি কম্বল মুড়ি দিয়ে মা তার ১০ দিনের শিশুকে নিয়ে প্রচন্ড শীতে কাঁপছে। এ দৃশ্য দেখে তিনি তার বাসা থেকে নিজের বিছানার তোষক ও গড়ম কাপড় এনে দেন। এসব পেয়ে মা তার শিশুটিকে আগলে ধরে যেনো নিরাপদ আশ্রয়ে রাত কাটালো।
পুলিশ সত্যিই মানবিক।কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ এর মানবিকতায় যেনো সিক্ত সূচনা ও তার নবজাতক। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারন মানুষও তার এ মানবিকতায় মুগ্ধ হন।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার প্যারাভাঙ্গা গ্রামের মো. সাইফুল ইসলামের মেয়ে ফারহানা আক্তার সূচনা (১৩)। একই পাড়ার মো. পাভেল মিয়ার (১৯) এর প্রেমের মায়ায় জড়িয়ে পড়েন। গোপনে বাবা মায়ের সংসার থেকে গত দশ মাস আগে প্রেমিকের হাত ধরে বাড়ি থেকে পা বাড়ায় সূচনা।
বাবা সাইফুল নাছোর বান্দা। গত ২০২২ সালের মার্চ মাসের ১২ তারিখ একটি অপহরন মামলা করেন। কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে ভিকটিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। সাথে ১০ দিনের নবজাতক শিশু। রাতে নারী হেল্প ডেস্কে তাদের থাকতে দেয় পুলিশ।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ’র সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির কথা হলে তিনি বলেন, যেহেতু প্রচন্ড ঠান্ডা তাই ভাবলাম তাদেকে একনজর দেখে আসি। এসে তাদের দেখলাম মা তার শিশুটিকে নিয়ে শীতে খুর কষ্ট করছে। দেখে আমি সইতে পারি নাই আমিও তো মানুষ, পরে আমার নিজের বাসা থেকে বিছানা তোশকসহ কিছু গরম কাপড় দিয়ে সূচনা ও তার শিশুর কষ্ট লাগবে চেষ্টা করলাম মাত্র।
Leave a Reply