1. admin@zisantv.com : Alim Uddin : Alim Uddin
রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ
কানাইঘাট-জকিগঞ্জবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রফেসর এম ফরিদ উদ্দিন তারেক রহমান : দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক রাজনীতির কীর্তিময় এক অনন্য নাম আটগ্রাম-কালিগঞ্জ সড়কে বীর মুক্তিযোদ্ধা হারিস চৌধুরীর নামফলক ভেঙে ফেলল দুর্বৃত্তরা মাহে রমজান উপলক্ষে সকল মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রফেসার এম. ফরিদ উদ্দিন সমাজে সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অদম্য নারীরা ভূমিকা রাখছেন- কেয়া খান কানাইঘাটের পরিস্থিতিকে শান্ত করতে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে খেলাফত মজলিসের সভা জকিগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি সুজন আহমদ গ্রেফতার সিলেটে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে- কানাইঘাটে পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান কানাইঘাটে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একজনকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ ফেলে গেল সুরমা নদীতে

ভৈরব থানা থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে মেয়ের মৃতদেহ নিলো বাবা (হাওর টাইমস)

  • প্রকাশের সময় শুক্রবার, ১৪ জুলাই, ২০২৩
  • ১২৭ বার পড়েছে

এম.আর রুবেল, ভৈরব প্রতিনিধিঃ

পুলিশের দাবিকৃত ২০ হাজার টাকা পরিশোধের বিনিময়ে থানা থেকে মেয়ের লাশ বাড়িতে নিতে হলো ভুক্তভোগী এক অসহায় পিতাকে। গত ৭ জুলাই শুক্রবার ভৈরব থানায় এঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে নিহতের পিতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভাতি প্রদান ও এক জনপ্রতিনিধির মুঠোফোন ছুঁড়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

শুক্রবার (১৪ জুলাই) বেলা ১১টা ভৈরব ভিআইপি প্লাজায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের অবগত করেন নিহত সোনিয়া আক্তারের ভুক্তভোগী পিতা মো: আক্তার হোসেন।

জানাযায়, ভুক্তভোগী পিতা মো: আক্তার হোসেন ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার মেয়ে মোছাঃ সোনিয়া আক্তারকে (২৮) বিয়ে দেন একই উপজেলার কালিপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মোর্শিদ মিয়ার পুত্র মো: আরমানের নিকট। তাদের সংসারে ২জন মেয়ে ও ১জন পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর জানতে পারেন মেয়ের জামাই আরমান একজন মাদক সেবী ও মাদক কারবারি। সে বিভিন্ন সময় স্ত্রী সোনিয়াকে তার বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দেয়ার জন্য মারধর করতো। পরিবারের লোকজনও মানষিক ও শারিরীক নির্যাতন করতো বলে অভিযোগ উঠে। নির্যাতন সইতে না পেড়ে বাবার কাছে থেকে বেশ কয়েকবার টাকাও এনে দিয়েছেন স্বামী আরমানকে।

গত ৭জুলাই, শুক্রবার কালিপুর গ্রামের পাশ্ববর্তী নয়াহাটি গ্রামের একটি নির্জন জায়গা থেকে তিন সন্তানের জননী সোনিয়া আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ভৈরব থানা পুলিশের এসআই মাজহারুল ইসলাম। নিহতের পরিবারের অভিযোগ সোনিয়া আক্তারকে স্বামী আরমান ও তাঁর পরিবারের লোকজন নির্যাতন করে মেরে ফেলে এবং ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য পাশ্ববর্তী নয়াহাটি নামক নির্জন জায়গায় গাছের সাথে ওরনা দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে।

পরবর্তীতে ভৈরব থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠান।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিহতের পিতা আক্তার হোসেন মামলা করতে চাইলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর মামলা করতে হবে বলে জানান এসআই। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় সোনিয়ার লাশ ভৈরব থানায় আসলে এসআই মাজহারুল ইসলাম লাশ হস্তান্তরের কথা বলে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। পরে লাশ আটকিয়ে রেখে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা ছাড়া লাশ না দেয়ায় বাধ্য হয়ে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে এসআই মাজহারুল ইসলামকে তার দাবিকৃত টাকা প্রদান করে মেয়ের লাশ বাড়িতে নিয়ে কাপন দাফন করেন ভুক্তভোগী পিতা।

পরদিন শনিবার থানায় এসে এসআই মাজহারুল ইসলামকে মামলা করার কথা বলতেই এসআই জানান, সোনিয়া মারা যাওয়ার ঘটনার দিনই ভৈরব থানায় অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড হয়েছে। নির্যাতন করে মেরে ফেলার ঘটনায় কেন অপমৃত্যুর মামলা হবে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী পিতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও মামলায় ঢুকিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়ার অভিযোগও উঠেছে । ওসির সাথে দেখা করার কথা বললে গালিগালাজ করে থানা থেকে বের করে দেন এবং সাথে থাকা এক জনপ্রতিনিধির মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে মাটিতে ছুঁড়ে মারেন। প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করার শর্তে অভিযুক্ত আরমান মিয়ার নিকট হতে ৩ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগী আক্তার হোসেন অভিযোগ করেন।

আগানগর ইউপি পরিষদের মেম্বার মো: জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, নিহত সোনিয়ার বাবাসহ তিনি ঘটনার দিন রাতে থানায় আসেন লাশ নেয়ার জন্য। এসময় পুলিশ ভুক্তভোগীর কাছে লাশ হস্তান্তর করতে বিশ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে আক্তার হোসেন কমলপুর গ্রামে তার আত্মীয়র কাছে থেকে টাকা ধার করে এনে এসআইকে দেয়। পরদিন মামলা করতে থানায় আসলে এসআই জানান অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড হয়েছে। এসময় এক অফিসারের নিকট ফোন করার সময় হাত থেকে মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে মাটিতে ছুঁড়ে মারেন। তিনি এসব ঘটনার বিচার দাবি করেন।

অভিযুক্ত ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম টাকা নেয়ার বিষয়টি সত্য নয় দাবি করেন এবং এবিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি তিনি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান সংবাদগুলো


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST