বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের বন্দর নগরী ভৈরবের শ্যামপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে লোড ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলার এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা অরুণ আল- আজাদ ভৈরব উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক।
শ্যামপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে লোড ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটছে শ্যামপুর গ্রামবাসীর। বার বার বাধা নিষেধ দিয়েও বন্ধ করা যাচ্ছেনা বালি উত্তোলন। প্রতিকার চেয়ে বালি উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছে শ্যামপুর গ্রামবাসি।
উপজেলা প্রশাসন বলছে ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালি উত্তোলন অবৈধ। বালি উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা ড্রেজারে বালি উত্তোলনের ফলে গ্রামটি যে কোন সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এ গ্রামে ২ হাজার লোকের বসবাস। গ্রামটি বিলীন হয়ে গেলে ২ হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে। তাদের মাথা গোজাঁর ঠাই থাকবে না। শুধু শ্যামপুর গ্রামই নয় বালি উত্তোলনের ফলে আশ-পাশের শত শত একর ফসলি জমিসহ গ্রামটিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে একই কথা জানালেন মোঃ হোসেন মিয়া, অহিদ মিয়া, মোজাম্মেল, রুহুল আমিন, শামিমসহ এলাকাবাসিরা জানান, গ্রামটি মেঘনা নদী ঘেষা হওয়ায় আমরা এমনিতেই ভাঙন আতঙ্কে থাকতাম সব সময়। বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ সায়দুল্লাহ মিয়ার প্রচেষ্টায় ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য একটি বেড়িঁবাধ নির্মাণ করে দিয়েছে। বাধ সংলগ্ন স্থান থেকে বালি উত্তোলনের ফলে বেড়িবাধ ভেঙে যাবে বলে গ্রামটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেলে এ গ্রামে কারো মাথা গোজাঁর ঠাই থাকবে না।
তাই স্থানীয় প্রশাসন ও মাননীয় সাংসদ নাজমুল হাসান পাপন যেন বালি উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনিয় ব্যাবস্থা নিয়ে আমাদের গ্রামটি যেন রক্ষা করেন।
এ বিষয়ে আগানগর ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার রাশিদ মিয়া জানান, আমি যুবলীগের রাজনীতি করায় নেতা অরুণ ভাই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন জায়গাটা ড্রেজারের লোকজনকে দেখিয়ে দেয়ার জন্য। অরুণ ভাই বলেছে কাগজপত্র সব লিগ্যাল আছে, তাই আমি গিয়েছিলাম। ড্রেজারে বালু উত্তোলন এখন বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপজেলা যুবলীগ যুগ্ম-আহবায়ক অরুণ আল-আজাদ বলেন, সরকারি নিয়মনীতি মেনে বরাদ্দ পাওয়া খাল খননের কাজটি আমরা করছি। কাগজপত্র সব ঠিক আছে। গুডম্যান নামে টাঙ্গাইলের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে আমরা খাল খননের কাজটির সময় মতো সমাপ্ত করতে না পারায় নতুন করে সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প’রীক্ষামূলকভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছি মূলত খাল খননের জন্য। বালু বিক্রির অভিযোগটি সঠিক নয়। আমাদের একটাই ভুল হয়েছে উত্তোলনকৃত বালু নিলামের কাজটি শে’ষ না করে ড্রেজার লাগানো। এলাকার জনগণ বাধা দেয়ায় আমরা বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছি।
এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ বলেন, নদী থেকে বালি উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। শ্যামপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে ড্রেজারে বালি উত্তোলন করছে এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। তবে বালি উত্তোলন বন্ধে ড্রেজার মালিককে নিষেধ করা হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বালি মহাল করা হবে এ জন্য নদী সার্ভে, জরিপসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে বৈধভাবে মেঘনা নদী থেকে বালি উত্তোলন করা গেলে সরকারও রাজস্ব পাবে ।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মতিউর রহমান বলেন, কোথা থেকে বালি উত্তোলন হচ্ছে আমার জানা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেন বালি উত্তোলনের বিষয়ে আমার কোন দায়িত্ব নেই।
Leave a Reply