কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার একই পরিবারের ৪ জনসহ ৫ জন মারা গেছেন। এরা হলেন নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের বনহাটি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে সুজন মিয়া (৩৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (৩০), তাদের ছেলে সজীব মিয়া (৮) ও ইসমাইল মিয়া (৫)। এছাড়াও নিহত হয়েছেন একই উপজেলার মুসল্লী গ্রামের হিরা আক্তার।
নিহত সুজনের ভাই স্বপন মিয়া জানান, সুজন মিয়া ঢাকার মোহাম্মদপুর তাজমহল রোড এলাকায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ভ্যান গাড়িতে ডাব বিক্রি করে সংসার চালাতেন।
গত শুক্রবার (২০ অক্টোবর) বড় ভাইয়ের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। অনুষ্ঠান শেষ করে সোমবার (২৩ অক্টোবর) এগারোসিন্ধুর ট্রেনে করে ঢাকার কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছিলেন। স্বপন মিয়া নিজেও ভাইয়ের পরিবারের সাথে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। তবে দুর্ঘটনার সময় তিনি পাঁচ নম্বর বগিতে থাকায় বেঁচে যান।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এগারসিন্দুর গোধূলি ট্রেনটি ভৈরব রেল স্টেশন থেকে ছাড়ার পরপরই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মালবাহী চলন্ত ট্রেন সিগনাল অমান্য করে এগারোসিন্ধুর ট্রেনটির পিছনের তিনটি বগিতে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম একই পরিবারের সকলের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, একই পরিবারের চারজনের মরদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া মেনে আনা হবে। তারপর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানান, কনটেইনারবাহী ট্রেনটি সিগন্যাল অমান্য করে স্টেশনে প্রবেশ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এরইমধ্যে চালক, সহকারী চালক এবং ট্রেনের পরিচালককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
Leave a Reply