1. admin@zisantv.com : Alim Uddin : Alim Uddin
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালেন এম এ করিম জকিগঞ্জে বাঁশের সাঁকো থেকে নদীতে পড়ে শিশু মিজানুর রহমানের মৃত্যু বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা ইমাম বুখারী’র মাজার ও ইথিওপিয়া সফরে মাওলানা এম এ করিম : দোয়া কামনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন সাফল্য বয়ে এনেছেন কানাইঘাটের তরুন লেখক জয় দাস রাজা গিরিশচন্দ্র স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মুহাররম মাসের মর্যাদা ও ফযীলত : মুহাররম মাসের সাথে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িত আছে কানাইঘাটের গরিপুর-চরিপাড়া সুরমা ডাইক পাকাকরণের জন্য এমপি’র কাছে আবেদন করেছেন ডাঃ শহীদুল্লাহ কানাইঘাটের ৫ রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যুতে আবুল হাসান এমপির শোক প্রকাশ কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত, তাদের বাড়ি কানাইঘাটের গাছবাড়ি এলাকায়

মুহাররম মাসের মর্যাদা ও ফযীলত : মুহাররম মাসের সাথে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িত আছে

  • প্রকাশের সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ৫৫ বার পড়েছে

ক্বারী মাওলানা হারুনুর রশীদ চতুলী :: মুহাররম : আল্লাহ্ তাআলার নির্ধারিত সম্মানিত মাস এবং হিজরী বর্ষের প্রথম মাস হিজরী বর্ষের সর্বপ্রথম মাস- মুহাররামুল হারাম তথা মুহাররম মাস। হাদীসের ভাষায়- শাহরুল্লাহ আলমুহাররাম। আল্লাহ তাআলা বছরের যে ক’টি মাসকে বিশেষ মর্যাদায় মহিমান্বিত করেছেন মুহাররম তার অন্যতম। কুরআন মাজীদে আল্লাহ বলেন- إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ আল্লাহ তা’আলা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই বারো মাসে বছর নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তন্মধ্যে চারটি (মাস) সম্মানিত। আর এটাই সহজ-সরল দ্বীন। (সূরা তাওবা) এই মাস সমূহের মধ্যে প্রথম মাস হল মুহাররম মাস। মুহাররম মাসের সাথে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িত আছে। এই মাসে রয়েছে কিছু সুন্নাত ইবাদত। আবার এই মাসকে কেন্দ্র করে সমাজে কিছু কুসংস্কার ও সুন্নাহ বিরোধী আমল প্রচলিত আছে।

আলোচ্য প্রবন্ধে এ বিষয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। মুহাররম মাসের ফযীলত : ইসলামী শরী’আতের আলোকে মুহাররম মাসের অনেক ফযীলত রয়েছে। ১. এটা হারাম মাস : মহিমান্বিত ও সম্মানিত। আবূ বাকরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) বলেন, الزَّمانُ قَدِ اسْتَدارَ كَهَيْئَتِهِ يَومَ خَلَقَ اللهُ السَّمَواتِ والأرْضَ، السَّنَةُ اثْنا عَشَرَ شَهْرًا، مِنْها أرْبَعَةٌ حُرُمٌ، ثَلاثَةٌ مُتَوالِياتٌ: ذُو القَعْدَةِ وذُو الحِجَّةِ والمُحَرَّمُ، ورَجَبُ مُضَرَ، الذي بيْنَ جُمادى وشَعْبانَ- আল্লাহ যেদিন আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, সেদিন হতে সময় যেভাবে আবর্তিত হচ্ছিল আজও তা সেভাবে আবর্তিত হচ্ছে। বারো মাসে এক বছর। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। যুল-কা‘দাহ, যুল-হিজ্জাহ ও মুহাররাম। তিনটি মাস পরস্পর রয়েছে। আর একটি মাস হ’ল রজব-ই-মুযার,যা জুমাদা ও শা’বান মাসের মাঝে অবস্থিত। ২. এই মাসের সিয়াম রামাযানের পরে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ : আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, أفضَلُ الصِّيامِ بعدَ شَهرِ رمَضانَ شهرُ اللهِ المُحرَّمُ، وإنَّ أفضَلَ الصَّلاةِ بعد المفروضةِ صلاةٌ مِن اللَّيْلِ রামাযান মাসের পর আল্লাহর মাস মুহাররমের সিয়াম হচ্ছে সর্বোত্তম এবং ফরয সালাতের পর রাতের সালাতই সর্বোত্তম। ৩. এই মাস আল্লাহর মাস : বছরের সব মাস আল্লাহর হলেও মুহাররমকে আল্লাহ নিজের মাস বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আশূরা কী? আরবী ‘আশারা (عشر) শব্দ থেকে এসেছে আশূরা (عاشوراء)। আশারা অর্থ দশ আর আশূরা অর্থ দশম, মাসের দশম দিন।

হিজরী সনের প্রথম মাস মুহাররমের দশ তারিখকে আশূরা বা আশূরায়ে মুহাররম বলা হয়। আশূরার করণীয় : আশূরাকে কেন্দ্র করে আমাদের সমাজে বিভিন্ন আমলের প্রচলন দেখা যায়। যার সবগুলো ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামের আলোকে আশূরায় করণীয় হ’ল- ১. হারাম মাস হিসাবে এ মাসকে সম্মান করা : মুহাররম মাস বছরের চারটি হারাম মাসের অন্যতম। অন্যান্য হারাম মাসের ন্যায় এ মাসে বিভিন্ন নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থেকে এ মাসকে সম্মান করতে হবে। ২. সিয়াম পালন করা : এ মাসের অন্যতম কাজ হ’ল এ মাসের দশ তারিখে সিয়াম পালন করা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কাতে অবস্থান কালে এ সিয়াম পালন করতেন। মক্কার কুরায়শরাও এই দিনকে সম্মান করত ও সিয়াম পালন করত। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ تَصُومُهُ قُرَيْشٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُهُ فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا فُرِضَ رَمَضَانُ تَرَكَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ- জাহেলী যুগে কুরায়শরা আশূরার সিয়াম পালন করত এবং আল্লাহর রাসূল (সা.)ও এ সিয়াম পালন করতেন। যখন তিনি মদীনায় আগমন করেন তখনও এ সিয়াম পালন করেন এবং তা পালনের নির্দেশ দেন। যখন রামাযানের সিয়াম ফরয করা হল তখন আশূরার সিয়াম ছেড়ে দেয়া হল। যার ইচ্ছা সে পালন করবে, আর যার ইচ্ছা পালন করবে না। মদীনায় হিজরতের পর তিনি এ সিয়াম পালন করতেন ও ছাহাবায়ে কেরামকে সিয়াম পালনের নির্দেশ দেন।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَرَأَى الْيَهُودَ تَصُومُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ مَا هَذَا قَالُوا هَذَا يَوْمٌ صَالِحٌ هَذَا يَوْمٌ نَجَّى اللهُ بَنِي إِسْرَائِيلَ مِنْ عَدُوِّهِمْ فَصَامَهُ مُوسَى قَالَ فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ- নবী করীম (সা.) মদীনায় আগমন করে দেখতে পেলেন যে, ইহুদীরা আশূরার দিনে সিয়াম পালন করে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার? তোমরা এ দিনে সিয়াম পালন কর কেন? তারা বলল, এটি অতি উত্তম দিন। এ দিনে আল্লাহ তা’আলা বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রুর কবল হতে নাজাত দান করেছেন। ফলে এ দিনে মূসা (আঃ) সিয়াম পালন করতেন। রাসূল (সা.) বললেন, আমি তোমাদের অপেক্ষা মূসার অধিক নিকটবর্তী। এরপর তিনি এ দিনে সিয়াম পালন করেন এবং লোকদেরকে সিয়াম পালনের নির্দেশ দেন। রামাযানের সিয়াম ফরয হওয়ার আগে রাসূলুল্লাহ (সা.) মুহাররম মাসের দশ তারিখে সিয়াম পালনে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।

সাহাবীগণও আশূরার সিয়াম পালনের ব্যাপারে গুরুত্ব দিতেন। রুবাইয়ি’ বিনতু মুআবিবয (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, أَرْسَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم غَدَاةَ عَاشُورَاءَ إِلَى قُرَى الأَنْصَارِ مَنْ أَصْبَحَ مُفْطِرًا فَلْيُتِمَّ بَقِيَّةَ يَوْمِهِ وَمَنْ أَصْبَحَ صَائِمًا فَليَصُمْ قَالَتْ فَكُنَّا نَصُومُهُ بَعْدُ وَنُصَوِّمُ صِبْيَانَنَا وَنَجْعَلُ لَهُمْ اللُّعْبَةَ مِنْ الْعِهْنِ فَإِذَا بَكَى أَحَدُهُمْ عَلَى الطَّعَامِ أَعْطَيْنَاهُ ذَاكَ حَتَّى يَكُونَ عِنْدَ الإِفْطَارِ- আশূরার সকালে আল্লাহর রাসূল (সা.) আনসারদের সকল পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেন, যে ব্যক্তি সিয়াম পালন করেনি সে যেন দিনের বাকী অংশ না খেয়ে থাকে। আর যার সিয়াম অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন সিয়াম পূর্ণ করে। তিনি রুবাইয়ি (রাঃ) বলেন, পরবর্তীতে আমরা ঐ দিন সিয়াম পালন করতাম এবং আমাদের শিশুদের সিয়াম পালন করাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ঐ খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত।  অন্য বর্ণনায় এসেছে, فَإِذا سَأَلُونا الطَّعامَ، أَعْطَيْناهُمُ اللُّعْبَةَ تُلْهِيهِمْ حتّى يُتِمُّوا صَوْمَهُمْ- যখন তারা আমাদের কাছে খাবার চাইত, আমরা তাদের খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম যতক্ষণ না তারা তাদের সিয়াম পূর্ণ করত।

ইবনু আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে আশূরার দিনের ছিয়ামের উপরে অন্য কোন দিনের সিয়ামকে প্রাধান্য দিতে দেখিনি এবং এ মাস অর্থাৎ রামাযান মাস এর উপর অন্য মাসের গুরুত্ব প্রদান করতেও দেখিনি। আল-হাকাম ইবনুল আ’রাজ (রহ.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু আববাস (রাঃ)-এর নিকট এলাম। এ সময় তিনি মাসজিদুল হারামে তার চাদরে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। আমি তাকে আশূরার সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যখন তুমি মুহাররমের নতুন চাঁদ দেখবে, তখন থেকে গণনা করতে থাকবে। এভাবে যখন নবম দিন আসবে তখন সিয়াম অবস্থায় ভোর করবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, মুহাম্মাদ (সা.) কি এভাবে রোযা রাখতেন? তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (সা.) এভাবেই রোযা রাখতেন’।

আশূরার সিয়ামের হুকুম : আশূরার সিয়াম পালন করা সুন্নাত। হুমাইদ ইবনু আব্দুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, যে বছর মু’আবিয়া (রাঃ) হজ্জ করেন, সে বছর আশূরার দিনে মসজিদে নববীর মিম্বরে তিনি (রাবী) তাঁকে বলতে শুনেছেন যে, يَا أَهْلَ الْمَدِينَةِ أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ هَذَا يَوْمُ عَاشُورَاءَ وَلَمْ يَكْتُبْ اللهُ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ وَأَنَا صَائِمٌ فَمَنْ شَاءَ فَلْيَصُمْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيُفْطِرْ- হে মদীনাবাসীগণ! তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, আজকে আশূরার দিন, আল্লাহ তা’আলা এর সিয়াম তোমাদের উপর ফরয করেননি বটে, তবে আমি সিয়াম পালন করছি। যার ইচ্ছা সে সিয়াম পালন করুক, যার ইচ্ছা সে পালন না করুক।

হযরত আলী রা.কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিল, রমযানের পর আর কোন মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোযা রাখার আদেশ করেন? তিনি বললেন, এই প্রশ্ন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জনৈক সাহাবী করেছিলেন, তখন আমি তাঁর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, রমযানের পর যদি তুমি রোযা রাখতে চাও, তবে মুহাররম মাসে রাখো। কারণ, এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।

জামে তিরমিযী অন্য হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোযার কারণে আল্লাহ তাআলা অতীতের এক বছরের (সগীরা) গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। صيام يوم عاشوراء أحتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله ★ যেভাবে রাখব আশুরার রোযা আশুরার দিন রোযা রাখা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ একটি আমল। এ দিন রোযা রাখা মুস্তাহাব। তবে এরচেয়ে উত্তম হল, দশ মুহাররমের আগে বা পরে নয় বা এগার তারিখে একদিন অতিরিক্ত রোযা রাখা। নয় তারিখে রাখতে পারলে ভালো। কারণ হাদীসে নয় তারিখের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আশুরার রোযা রাখছিলেন এবং অন্যদেরকে রোযা রাখতে বলেছিলেন তখন সাহাবীগণ বললেন- يَا رَسُولَ اللهِ إِنّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنّصَارَى؟ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ দিনকে তো ইহুদী-নাসারারা (খ্রিস্টানরা) সম্মান করে? তখন নবীজী বললেন- فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللهُ صُمْنَا الْيَوْمَ التّاسِعَ قَالَ: فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ، حَتّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ তাহলে আগামী বছর আমরা নয় তারিখেও রোযা রাখব- ইনশাআল্লাহ। কিন্তু সেই আগামী বছর আসার পূর্বেই নবীজীর ইন্তেকাল হয়ে যায়। -সহীহ মুসলিম, নয় তারিখ রোযা রাখবো, মানে দশ তারিখের সাথে নয় তারিখ মিলিয়ে রাখব।

এজন্য ইবনে আব্বাস রা. বলতেন- صُومُوا التّاسِعَ وَالعَاشِرَ وَخَالِفُوا اليَهُودَ. তোমরা নয় তারিখ এবং দশ তারিখ রোযা রাখো এবং ইহুদীদের বিরোধিতা কর। -জামে তিরমিযী, আর সবচেয়ে উত্তম হয়, দশ তারিখের সাথে মিলিয়ে আগে-পরে আরো দুটি রোযা রাখা। নয়, দশ ও এগার সর্বমোট তিনটি রোযা রাখা। কারণ, পুরো মুহাররম মাসব্যাপি রোযার কথা তো সহীহ হাদীসেই আছে। •মুহাররম ও আশুরা কেন্দ্রিক কিছু গর্হিত রেওয়াজ আফসোসের বিষয় হচ্ছে, নেকীর এ সময়কে ঘিরে সমাজে রয়েছে বিভিন্ন গলত রসম রেওয়াজ এবং নানা রকমের বিদআতী কর্মকাণ্ড। এ সময়ের আমল ততটুকু, যতটুকু উপরে হাদীসে উল্লেখিত। মুহাররম  মাসকে কেন্দ্র করে এছাড়া আর বিশেষ কিছু পাওয়া যায় না। নেই এ দিনের জন্য বিশেষ নামায, বিশেষ যিকির, বিশেষ আয়োজন এবং বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা। বিশেষ করে দশ মুহাররমে হায় হোসেন! হায় হোসেন! মাতমের যে ন্যক্কারজনক পরিস্থিতির অবতারণা করা হয় তা তো খুবই গর্হিত একটি সংস্কৃতি। ইসলামের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

ইসলাম মাতম ও শোক প্রকাশের এমন আয়োজনকে হারাম সাব্যস্ত করেছে। এরচেয়ে জঘন্য হল, এ দিনে তাযিয়া-র নামে শিরক-বিদআতের আয়োজন করা। পরিতাপের বিষয়, শিয়াদের এমন আয়োজনগুলোতে ঢালাওভাবে অনেক মুসলমান অংশগ্রহণ করে থাকে। এটা যে ঈমানের জন্য কত বড় হুমকি ও খতরা- তা কি তারা একবারের জন্য হলেও ভেবে দেখেন! কাজেই মুহাররম কেন্দ্রিক সকল গর্হিত কর্মকান্ড থেকে বেঁচে থাকার পাশাপাশি সকল বিদআত-খুরাফাত ও রসম-রেওয়াজ থেকেও দূরে থাকা আবশ্যক। দেখা যায়, ফযীলতের সময়গুলোতে সওয়াব হাছিল করতে গিয়ে উল্টো হারামে লিপ্ত হওয়ার গুনাহ হতে থাকে। এটা তো কখনোই কাম্য নয়। আবার বিধানগতভাবে ফযীলতের এ ব্যাপারগুলো নফল হওয়ায় এ থেকে গাফেল থাকাও উচিত নয়।

শরীয়ত যে বিধানকে যে স্তরে রেখেছে এবং যে সময়ের যতটুকু মূল্যায়ন করেছে ততটুকু করতে পারাই লাভ। এর কমবেশি করতে গেলেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। তাই একদিকে যেভাবে সকল খুরাফাত ও রসম-রেওয়াজ পরিত্যাজ্য, অপরদিকে ফযীলতপূর্ণ এ আমল ও উপলক্ষগুলো নফল হওয়ায় এগুলোর ব্যাপারে বিলকুল গাফেল থাকাও সচেতন মুমিনের শান নয়! আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ফরয বিধানের ব্যাপারে পূর্ণ সচেতন থাকার পাশাপাশি নফল বিধানাবলির ক্ষেত্রেও মনোযোগী হওয়ার তাওফীক দান করুন। বিশেষভাবে নতুন বছরে নতুন প্রত্যয় ও  পূর্ণ উদ্যমে ঈমান-আমলের পথে এগিয়ে যাবার তাওফীক দান করুন। আমাদের ঈমান-আমল, কর্ম-আচরণ, স্বভাব-চরিত্রসহ জীবনের সকল অঙ্গনে উৎকর্ষ আসুক- এই পণ নিয়ে শুরু হোক আমাদের আগামীর পথচলা। আল্লাহ তাআলা সকলকে সেই তাওফীক দান করুন- আমীন।

লেখক- সহকারী শিক্ষক : জামেয়া দারুল উলুম দারুল হাদিস কানাইঘাট মাদরাসা, সিলেট।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির অন্যান সংবাদগুলো