1. admin@zisantv.com : Alim Uddin : Alim Uddin
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালেন এম এ করিম জকিগঞ্জে বাঁশের সাঁকো থেকে নদীতে পড়ে শিশু মিজানুর রহমানের মৃত্যু বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা ইমাম বুখারী’র মাজার ও ইথিওপিয়া সফরে মাওলানা এম এ করিম : দোয়া কামনা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন সাফল্য বয়ে এনেছেন কানাইঘাটের তরুন লেখক জয় দাস রাজা গিরিশচন্দ্র স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মুহাররম মাসের মর্যাদা ও ফযীলত : মুহাররম মাসের সাথে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা জড়িত আছে কানাইঘাটের গরিপুর-চরিপাড়া সুরমা ডাইক পাকাকরণের জন্য এমপি’র কাছে আবেদন করেছেন ডাঃ শহীদুল্লাহ কানাইঘাটের ৫ রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যুতে আবুল হাসান এমপির শোক প্রকাশ কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত, তাদের বাড়ি কানাইঘাটের গাছবাড়ি এলাকায়

রোজা সমাচার: সিলেট অঞ্চলে সেহরিকে অনেকে আদর করে ‘ফতা’ বলে ডাকে

  • প্রকাশের সময় বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪০৬ বার পড়েছে

রোজা সমাচার: ফতা নিয়ে কিছু কতা, ছোটবেলায় রোজা নিয়ে মজার স্মৃতি নেই, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন! বিশেষ করে সেহরি নিয়ে যত কাণ্ডকারখানা, তা এখন মনে পড়লে হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হয়ে যায়। আমাদের সিলেট অঞ্চলে সেহরিকে অনেকে আদর করে ‘ফতা’ বলে ডাকে। তো, ছোটবেলায় ফতা নিয়ে আমাদের কৌতূহলের শেষ ছিল না। বড়রা বলতেন, ‘উঠো উঠো, ফতা খাওয়ার সময় হইছে!’ আমরা ঘুমজড়ানো চোখে উঠতাম, কিন্তু প্লেটে দেখি শুধু সাদা ভাত! তখন তো মনটাই ভেঙে যেত। কান্নাকাটি করে বলতাম, ‘ফতা দেও, ভাত খাইতাম নায়!’ বড়রা অনেক বুঝিয়ে বলতেন-এই ভাতের নামই ফতা।

কিন্তু ছোট্ট মাথায় তখন প্রশ্ন-ভাত আবার ফতা হয় কেমনে? সন্দেহটা থেকেই যেত! ফতা খাওয়া শেষ, এবার রোজা রাখার পালা। লম্বা দিন, সারাদিন উপোস-বড়দের জন্যই যেখানে কঠিন, সেখানে আমরা ছোটরা তো আরও বিপদে! তবে বড়রা আমাদের জন্য ‘গবেষণা’ বের করেছিলেন। কেউ বলতেন, ধান মাপার যন্ত্রের (হেরের) নিচে রোজা রেখে কিছু খেলে রোজা ভাঙে না। আবার কেউ বলতেন, পুকুরে ডুব দিয়ে পানি খেলে রোজা ভাঙে না! এইসব বৈজ্ঞানিক (!) তত্ত্ব শুনে আমরা দারুণ উৎসাহে একেক দিন ৩-৪টা পর্যন্ত রোজা রেখে ফেলতাম। কারণ ছোটদের তেজ বেশি-একটা ভাঙলে আরেকটা শুরু! মনে হতো, আমরা যেন বিশেষ অফারে রোজা রাখছি। কী বলেন, বাংলালিংকও এমন অফার দেয় না! মজার ঘটনা এখানেই শেষ নয়।

সেদিন আমার আব্বা আমার মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি রোজা ভাঙিলাইছনি? মেয়ে বলল, পরে ঠিক করমু। আব্বা অবাক হয়ে বললেন, কিভাবে ঠিক করবায়? মেয়ের নির্ভেজাল উত্তর-মিস্ত্রি এনে ঠিক করমু! এই সরল উত্তর শুনে আমরা সবাই হেসে কুটিকুটি। সত্যি বলতে, ছোটবেলার রোজা ছিল এক অদ্ভুত মিশ্রণ-সরলতা, দুষ্টুমি আর কল্পনার রঙে রাঙানো। কখনো সারাদিন উপোস থেকে আসরের সময় হঠাৎ কিছু খেয়ে ফেলা, কখনো একই দিনে কয়েকটা রোজা ম্যানেজ করা,সব মিলিয়ে ছিল আনন্দের উৎসব। এখন বড় হয়ে বুঝি, সেসব ছিল শৈশবের নির্মল স্মৃতি। আর সেই ফতা-ভাতের রহস্য? আজও মনে হলেই হাসি পায়।

লেখক: মাহবুবুর রশিদ,সাধারণ সম্পাদক, কানাইঘাট প্রেসক্লাব।

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির অন্যান সংবাদগুলো