1. admin@zisantv.com : Alim Uddin : Alim Uddin
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজঃ
কানাইঘাটের ৫ রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যুতে আবুল হাসান এমপির শোক প্রকাশ কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত, তাদের বাড়ি কানাইঘাটের গাছবাড়ি এলাকায় সিলেট-৫ আসনের সাবেক এমপি ফরিদ চৌধুরী স্মরণে কাতারে স্মরণ সভা বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কানাইঘাট উপজেলা শাখার দাওয়াতি সভা অনুষ্ঠিত প্রসঙ্গ :: সীমান্তে পুশ ইন, আইন ও মানবতার লঙ্ঘন বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত হওয়ায় সিসিক প্রশাসককে বিভিন্ন সংগঠনের সংবর্ধনা সিলেট-০৫ আসনের উন্নয়ন তদারকি ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের দায়িত্বে শাম্মী আক্তার এমপি কানাইঘাটের কৃতি সন্তান সিটি ব্যাংকের পরিচালক মনোয়ার আলিকে লন্ডনে সংবর্ধনা কানাইঘাটে কবরস্থানের কঙ্কাল চোর চক্রের চার সদস্যকে আদালতে প্রেরণ জৈন্তাপুরে স্যাটেলাইট টেলিভিশন বাংলা টিভি’র এক দশকপূর্তি অনুষ্ঠান পালন

দেওয়ান কালা মিয়া- একজন প্রচার বিমূখ বাউল ও মরমী সংগীত শিল্পী

  • প্রকাশের সময় রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬৯২ বার পড়েছে

মিলন কান্তি দাস :: সংগীতের একটি বিশেষ শাখা হচ্ছে বাউল সংগীত।বাউল সংগীত সর্বস্থরের মানুষের হৃদয়ের মধ্য নাড়া দেয় এবং পুলকিত করে। আমাদের বাংলাদেশ আউল বাউলের দেশ। হাজার বছর ধরে এখানে রয়েছে সংগীত সাধনার ইতিহাস। আমাদের সিলেট অঞ্চলের এক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ সুখ্যাতি। বিশেষ করে হাছন রাজা,রাধা রমন দত্ত, শাহ আব্দুল করিম, ক্বারী আমীর উদ্দিন, শীতালং শাহ প্রমুখ সংগীত কিংবদন্তিরা শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত। এরা সকলেই এই সিলেটের মাটি ও মানুষের সন্তান। তাদের পদাঙ্ক অনুসরন করে এই সিলেটে সৃ্ষ্টি হয়েছে আরও অসংখ্য বাউল, গীতিকার ও মরমী সাধকের। ধর্মপ্রাণ আমাদের সিলেট অঞ্চল। পাশাপাশি রয়েছে মরমী ও বাউল সংগীত প্রেম ও সাধনার প্রতি এ অঞ্চলের মাটি ও মানুষের এক নিবিড় সম্পর্ক।

ধর্মপ্রাণ সিলেট অঞ্চলের এই সুখ্যাতির অগ্রভাগে রয়েছে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা। এই উপজেলার মানুষ ধর্মপ্রাণ।প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে কানাইঘাটের এ সুখ্যাতি চলমান। যেহেতু কানাইঘাট একটি ধর্মপ্রাণ এলাকা, সুতরাং এখানে সংগীত সাধনা বা চর্চার ব্যাপারে পারিবারিকভাবে কোন উৎসাহ, উদ্দীপনা বা প্রেরনা নেই। তাই কানাইঘাটে অদ্যবধি পর্যন্ত সংগীতের কোন প্রতিষ্টান নেই।রক্ষনশীল ও ধর্মপ্রাণ কানাইঘাটে জন্ম নিয়েও যে বা যারা তাদের মনের অভিপ্রায়ে সংগীতের সাথে নিজের জীবনকে সম্পৃক্ত করেছেন বা করেছিলেন,তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন কানাইঘাটের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার শ্রদ্ধেয় দেওয়ান কালা মিয়া। তিনি একাধারে একজন বাউল শিল্পী ও মরমী সংগীত শিল্পী।তিনি নিজেই তার সকল গানের গীতিকার। বর্তমান সময়ে সিলেট অঞ্চলে হাতেগুনা যে কয়েকজন মরমী সংগীতের গীতিকার ও সুরকার রয়েছেন,তাদের মধ্যে এই গুনী শিল্পী অন্যতম।

কানাইঘাট পৌরসভার শ্রীপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম এই গুনী সংগীত সাধকের। ১৯৬৯সালের ১১ আগস্ট তার জন্ম।পিতা মরহুম মাস্টার মুফজ্জিল আলী দীর্ঘদিন ছিলেন কানাইঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং মাতা মরহুমা নুরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিনী।পিতা মাতার পাচ সন্তানের মধ্যে ৩য় সন্তান দেওয়ান কালা মিয়া শৈশব বয়স থেকেই সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। পিতা

বাড়ির পাশের শিবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে দেওয়ান কালা মিয়া তার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন করেন। তিনি ছোট বেলা থেকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করতে পারতেন।ছোটবেলা থেকে কন্ঠ অত্যন্ত সুন্দর ও মাধুর্য্যপূর্ণ হওয়ার কারনে উনার পিতা তাকে পরবর্তী শিক্ষা লাভের জন্য কানাইঘাটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্টান দারুল উলুম দারুল হাদিস কৌমিয়া মাদ্রাসয় ভর্তি করান। সেখানে কয়েক বছর শিক্ষা লাভের পর তিনি শিবনগর কৌমিয়া মাদ্রাসায় চলে যান। সেখান থেকে তিনি আবার তার এক মৌলভী চাচার শিক্ষকতার সূত্রে কুওরের মাটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষা লাভের জন্য চলে যান।

কিন্তু তার বয়স যত কৈশোরের দিকে এগোতে থাকে,তার মন তত সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। একা একা লুকিয়ে লুকিয়ে গান গাইতেন,গান শুনতেন। তখন তার বয়স প্রায় ১৮। সংগীতের প্রতি প্রগাঢ় টান আর তাকে চার দেয়ালের মধ্যে থামিয়ে রাখতে পারলো না।সংগীতের প্রতি আত্মার টানে হঠাত তিনি একদিন চলে গেলেন তৎকালীন সময়ে সিলেটের বিশিষ্ট গীতিকার শ্রদ্ধেয় সিদ্দিক আলী সাহেবের কাছে। সিদ্দিক আলী তার কন্ঠে গান শুনে বিমোহিত হন। কিন্তু সিদ্দিক আলী কিশোর দেওয়ান কালা মিয়াকে তার পিতা মাতার সম্মতি ছাড়া শিষ্যত্ব প্রদানে রাজি হলেন না। কথাটা শোনার পর তার মনের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলো এবং হতাশ হয়ে বাড়িতে ফিরে এলেন।কারন, তিনি জানতেন পিতা মাতা তাকে গান চালিয়ে যাওয়ার সম্মতি দেবেন না।

বাড়িতে আসার পর তাই ঘটলো। শিক্ষক পিতার সম্মতি মিললো না।কিন্তু হৃদয়ের গভীরে যার সংগীত প্রেম,সংগীত যার রক্তের শিরায় উপশিরায় মিশে গেছে-সেই কিশোর দেওয়ান কালাকে সংগীত থেকে দুরে রাখবে কে? সংগীতের প্রতি ব্যাকুল মন তাকে কিছুতেই আর ঘরে থাকতে দিলো না।তিনি আবার সংগীত শিক্ষার প্রয়াসে সিলেট শহরে চলে এলেন। তখন এরশাদ সরকারের শাসনামল। চলে এলেন তৎকালীন সময়ের সিলেটের খ্যাতিমান ও জনপ্রিয় বাউল শিল্পী বাউল ওস্তাদ ফিরোজ মিয়ার কাছে। ওস্তাদ ফিরোজ মিয়া তার গান শুনে মুগ্ধ হলেন এবং তাকে শিষ্যত্ব প্রদানে রাজী হলেন।তিনি একটানা ৭ বছর ওস্তাদ ফিরোজের সান্নিধ্যে ছিলেন এবং সেখান থেকেই একজন পরিপূর্ণ বাউল শিল্পী হয়ে গড়ে উঠেন।

সেই থেকে বাউল দেওয়ান কালা মিয়ার শুরু, সংগীতের সাথে যার পথচলা অদ্যবধি চলছে। সিলেটে শিল্পী ফিরোজ মিয়ার সান্নিধ্যে থাকা অবস্থায় দেওয়ান কালা মিয়ার গর্বিত পিতা মাস্টার মুফজ্জিল আলী মৃত্য বরন করলে তিনি কয়েক বছরের জন্য বাড়িতে চলে আসেন। বড় দুই বোনের পর ভাইবোনদের মধ্যে তিনিই বড়। তাই পিতার মৃত্যুর পর পারিবারিক দায়িত্ব তার উপরই পৃথিবীর নিয়মের বৃত্তে পড়ে যায়। পারিবারিক দায়িত্ব পালন শুরু করেন।বাড়িতে টানা ৬/৭ বছর থেকে সংগীতের টানে আবার সিলেট শহরে চলে যান।তখন থেকে শুরু করেন আবার সংগীত সাধনা। একজন একনিষ্ট সংগীত সাধক ও বাউল শিল্পী হিসাবে তার শুরু হয় আবারও পথচলা।

সিলেটের একজন জনপ্রিয় বাউল শিল্পী হিসাবে তার পরিচয় দিনের পর দিন বিস্তৃত হতে থাকে। দেওয়ান বাউল কাল মিয়ার আর পিছনে ফিরে তাকানোর সময় নেই।নব্বইয়ের দশকে সিলেটে বাউল গান অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলো। সাধারন মানুষ বাউল গান শুনে তখন মনের আনন্দ লাভ করতো।তখন শাহ আব্দুল করিম, ক্বারী আমির উদ্দিন, অন্নদা রঞ্জন দাস, আব্দুল খালিক প্রমুখ সিলেট সহ সমগ্র বাংলাদেশের জনপ্রিয় বাউল শিল্পী। দেওয়ান কালা মিয়া এই সকল গুনী শিল্পীদের প্রায় সকলেরই স্নেহধন্য ছিলেন।ক্বারী আমির উদ্দিন তাকে খুব বেশী স্নেহ করতেন।দেওয়ান কালা মিয়া তখন থেকেই তাদের অনুসরন করতেন। এভাবে করতে করতে একদিন হয়ে উঠেন সিলেট অঞ্চলের জনপ্রিয় বাউল শিল্পী।

বৃহত্তর সিলেট জেলা সহ বাংলাদেশের আরো কয়েকটি জেলায় গিয়ে তিনি সংগীত পরিবেশন করতে থাকেন। সংগীতের জন্য যেখানেই তিনি গিয়েছেন,সেখানেই তিনি সাধারন মানুষের হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এভাবেই প্রশংসার মধ্য দিয়ে চলতে থাকে এই গুনী শিল্পীর বিগত ৪০ বছরের সংগীত জীবন। ৪০ বছরের সংগীত জীবনের ইতিহাস সাফল্য, সমৃদ্ধি, প্রশংসা ও অর্জনে পরিপূর্ণ।

ইতিমধ্যে জীবনের ৫৫ টি বসন্ত অতিক্রম করতে চলেছেন এই গুনী শিল্পী।তার মধ্যে সংগীতের জীবনই ৪০ বছর। অনেকদিন থেকেই তিনি বাংলাদেশ বেতার, সিলেট এর একজন তালিকাভুক্ত শিল্পী।বিগত কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ টেলিভিশনেও অডিশনে অংশগ্রহণ করেছেন। সেখানে বিচারক মন্ডলীর রায়ে উত্তীর্ণ হতে পারলে বাংলাদেশ টেলিভিশন এর তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবেও সিলেট অঞ্চলের এই গুনী শিল্পীর নাম যুক্ত হবে।

বিগত দুই দশক থেকে তিনি শুধু একজন শিল্পী নন বা তার পরিচয় শিল্পীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে একাধারে গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী। তিনি নিজেই তার গাওয়া গান রচনা করেন। বর্তমানে তার দুই শতাধিকেরও বেশী মৌলিক গান রয়েছে। তিনি তার মৌলিক সৃষ্টি গানগুলোই এখন গেয়ে থাকেন।তার মৌলিক সৃষ্টি গানগুলোর প্রায় সবই বাউল ও মরমী ধারার।তার সাথে রয়েছে দেশাত্মবোধক মৌলিক বাউল গান। ব্যাক্তিগত জীবনে অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ এই গুনী শিল্পী।ধর্মের প্রতি প্রগাঢ় টানে তিনি রচনা করেছেন অসংখ্য অগণিত মরমী, আধ্যাত্মিক ও ইসলামী ভাবধারার সংগীত। এই সংগীতগুলো তার জন্মস্থান কানাইঘাট সহ সিলেট অঞ্চলে খুবই জনপ্রিয়।

তার মৌলিক সৃষ্টি বাউল সুরের দেশাত্মবোধক গানগুলো খুবই জনপ্রিয়।দেওয়ান কালা মিয়ার মৌলিক সৃষ্টি একটি জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান হলো- সুজলা সুফলা সবুজ শ্যামল, বাংলা মা, আমার প্রাণেরই প্রাণ, আমি বাংলা মায়েরই সন্তান।। জননী আমার এই জন্মভূমি, বাংলা মায়ের ফুলে তাকি দিবসযামী, পাইনা, দেখিনা এ বিশ্ব ভ্রমি, আমার বাংলা মায়ের সমান।। রূপসী বাংলা মায়ের ফুলে, সুন্দর বনবিজন ভরা ফুলে ফুলে, পর্বত নদী সাগর ভরা খালে বিলে, সবুজ গাছের ডালে পাখি গায় গান।। জন্মভূমি বাংলা মায়েরই কুলে, বাংলা মায়ের সন্তান আমরা সকলে, মিশিয়া সবাই, থাকিয়া এক মিলে, রাখিব বাংলা মায়ের সম্মান।। গৌরব করি আমি বলিতে পারি, বাংলা মায়ের কুলে জন্ম আমারি, দেওয়ান কালা যেন মায়ের কুলে মরি, গেয়ে বাংলা মায়েরই গান।।

বাহ! কত সুন্দর শব্দ চয়ন ও শব্দ বিন্যাস দিয়ে সাজানো একটি দেশাত্মবোধক মৌলিক বাউল গান। এটা কেবলমাত্র একজন পরিপূর্ণ সংগীত সাধকের পক্ষেই সম্ভব।গীতিকার, সুরকার শিল্পী দেওয়ান কালা সেক্ষেত্রে নিশ্চয়ই এই যোগ্যতাটুকুর মাপকাঠির মধ্যে রয়েছেন।জন্মস্থান সিলেটের প্রতি অকৃত্রিম টান নিয়ে এই গুনী সংগীত সাধক লিখেছেন একাধিক গান।সিলেট নিয়ে লিখা তার একটি জনপ্রিয় বাউল গান হলো- এই মাটিতে ঘুমিয়ে আছেন শাহজালাল, শাহপরান, পূণ্যভূমি ধন্য আমি সিলেট আমার জন্মস্থান।। পূণ্যভূমি সিলেটের মাটি, আউলিয়া উলামার ঘাটি, এ মাটির মানুষও খাটি,সহজ সরল ধর্মপ্রাণ।। তিনশত ষাট আউলিয়া, এই মাটিতে আছেন শুইয়া, আমরা তাদের পরশ পাইয়া হইলাম বড় ভাগ্যবান।। মাটি ভরা সুফি সাধক, আছেন কত কবি লেখক, গাইছেন কত বাউল গায়ক, মনে প্রাণে ভাবের গান।। গিরি, গুহা, নদীনালা, আছে, দেখতে লাগে ভালা, চুনাপাথর, বালু কয়লা, আছে কত চা বাগান।। মাটি ভরা ফুলে ফুলে, আতা, লেবু, কমলা, বেলে, বাউল দেওয়ান কালা বলে, এসব আমার স্রষ্টার দান।।

সিলেট নিয়ে তার এই জনপ্রিয় মৌলিক গানটি বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিল্পীরাও গেয়ে থাকেন।গানটি সিলেট অঞ্চলে খুবই জনপ্রিয়।গানটির মধ্যে গীতিকার দেওয়ান কালা সিলেট মাটি,মানুষ ও প্রকৃতির একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র খুব অল্প কথার মধ্য দিয়েই তুলে এনেছেন।যা একটি গানের ভাব ও আবেগকে অত্যন্ত সুন্দর,সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ব্যাক্তিগত জীবনে এক সন্তানের জনক শিল্পী,সুরকার ও গীতিকার দেওয়ান কালা।ছেলে মানুষের মতো মানুষ হোক–ছেলের জন্য এই কামনা করে সবার কাছে দোয়া চান তিনি।

সংগীতের এই বিশাল ও বর্নাঢ্য জীবন নিয়ে তিনি ব্যাক্তিগতভাবে পরিতৃপ্ত। এবার তার মৌলিক সৃষ্টি মরমী ও বাউল সংগীতগুলো পুস্তক আকারে প্রকাশ করতে চান তিনি।এজন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা চান তিনি।সেই গ্রন্থটি তিনি বাংলা একাডেমী,বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর কাছে পৌছিয়ে দিতে চান। মহান সৃষ্টিকর্তা যেন তার সেই স্বপ্ন পুরন করেন-এজন্য তিনি সকলের দোয়া চান।

বাবা মরহুম মুফজ্জিল আলী ছিলেন একজন স্বনামধন্য শিক্ষক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থাকার পাশাপাশি ছিলেন কানাইঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির তিন বারের নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক। মরহুম পিতার শিক্ষকতা জীবনের স্মতি তিনি আজো বয়ে বেড়ান। শিক্ষক বাবার সন্তান।তাই সবসময় তিনি শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।ভাবেন,শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে সমাজের পাশাপাশি তারও দায়িত্ব আছে। ইতিমধ্যে তিনি শিক্ষকদের নিয়েও বেশ কয়েকটি গান রচনা করেছেন। গানগুলো তিনি বিভিন্ন অনুষ্টানে ও ফেইসবুক লাইভে পরিবেশন করে থাকেন।

জন্মস্থান কানাইঘাটের মাটি ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম টান এই গুনী সংগীত সাধকের। কানাইঘাটের মাটি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার হৃদ্যিক টানে বারবার কানাইঘাটে ফিরে এসেছেন। জীবনকে কানাইঘাটের আলো,বায়ুর মধ্যে সিক্ত করেছেন। কানাইঘাট সর্বদা তার হৃদয়ে। কানাইঘাটের মাটি ও মানুষের ভালোবাসা নিয়েই থাকতে চান,যতদিন এই পৃথিবীতে আছেন। তিনি মনে করেন ধর্মপ্রাণ কানাইঘাটবাসীর দোয়া ও ভালোবাসা তার সাথে তার কারনে তিনি সংগীত সাধনায় এতদূর আসতে পেরেছেন। মানুষের ভালোবাসা নিয়েই তিনি সৃষ্টির নিয়মের আবর্তনে একদা পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চান।

পরিশেষে বলবো,দেওয়ান কালা মিয়া—একজন অমিত প্রতিভাবান সংগীত শিল্পী।বাউল সংগীত দিয়ে যার সংগীত জীবনের শুরু,আর শেষটা দুর থেকে বহুদুর,আলয় থেকে হিমালয়। বিগত চল্লিশ বছরে সংগীত সাধন করে তিনি তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।শুধুমাত্র প্রচার বিমুখতার কারনে আমরা এই গুনী শিল্পীর যথাযথ মর্যাদা দিতে পারছিনা। বাংলাদেশের বাঙালী চেতনাকে জীবিত রাখতে হলে অবশ্যই সংগীত সাধক দেওয়ান কালা মিয়া সহ অন্যান্য প্রচার বিমুখ গুনী শিল্পীর খোজ নেওয়া প্রয়োজন।

সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রের শিল্প চর্চার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানকে দায়িত্ব নিতে হবে বলে আমরা মনে করি। দেওয়ান কালা মিয়াদের সংগীত বেঁচে থাকলে, বেঁচে থাকবে আমাদের বাঙালী চেতনা ও জাতীয়তাবাদ।সুতরাং, আমাদের চেতনার সাথে সংশ্লিষ্ট এসব গুনী শিল্পীদের শিল্পকর্মের স্বীকৃতি এবং তাদের যথাযথ পৃষ্টপোষকতা আমাদের অস্থিত্বের প্রয়োজনে জোরালো দাবী বলি আমি মনে করি।

প্রেরকঃ মিলন কান্তি দাস, কবি ও লোকসাহিত্য গবেষক, সিলেট। মোবাইলঃ ০১৭১৬২৩৫৭৬৭

শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির অন্যান সংবাদগুলো